Stories

জীবিত অথবা মৃত -


প্রথম রাতটি কেটে যাওয়ার পর বুঝতে পেরেছি, আমার ষাট বছরের অভ্যস্ত জীবনের দিবা-রাত্রির পালা বদল হয়েছে। শুধু দিবা-রাত্রি নয়, প্রকৃতিও যেন বদলে গেছে বিস্তর। আলতো করে জানালার পর্দাটি সরিয়ে দিতেই আশ্চর্য রঙিন বুদ্বুদের মতো ভোরের টলমলে আলো গড়িয়ে পড়ল ঘরের ভেতরে, মেঝেতে, বিছানায় এমনকি
মশারি ভেদ করে মাথার কাছের বালিশের ওপরে। চোখের কাছে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয় ছোট মিটসেল্ফ, ওষুধের শিশি, কাঁসার মগ, স্টিলের বাটি, বিস্কিটের কৌটো আর মুড়ি ভরা টিনের বাক্স। রাতে ওষুধ খাওয়া হয়নি। ভুলে গিয়েছিলাম। রাতের খাবারও তো খাওয়া হয়নি। অবশ্য আজকাল তেমন কিছু খাওয়া যায় না। ডাক্তারের নিষেধ আছে। দিবা-রাত্রির এ পালাবদল কিংবা আহারের থালাবদল যাই হোক, জীবন কিন্তু বদল হয়নি। যথারীতি জীবন যাপিত হচ্ছে মৃত্যুর দিকে তাকিয়েই। যত দিন মৃত্যুদূত এসে টুঁটি চেপে না ধরবে তত দিন এভাবে অনিমেষ তাকিয়েই থাকতে হবে বোধ হয়। এ কথা সবার জানা। কিন্তু যে কথা আমি ছাড়া অন্য কেউ জানে না তা হলো, এ অচেনা ঘরে শুয়ে আমি আজ সারা রাত কেঁদেছি, একটুও ঘুমাইনি।
আশ্রমের রাতের দৃশ্যটা বড় করুণ। ৯টা সাড়ে ৯টার মধ্যে সবাই খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে যায়। চারদিক নিঃসাড় হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে এপাশের ওপাশের ঘর থেকে বুড়ো-বুড়িদের কাশির আওয়াজ বা বাতরুমের পানির শব্দ শোনা যায়। নিস্তব্ধ রাতে নিসঙ্গতায় লীন হয়ে ঘুমের জন্য চোখ দুটো বন্ধ করতেই রাজন, ইরা, ঈশানী ও শিলার মুখগুলো ভেসে উঠেছিল। রক্ত মাংস আর আয়ুর ভাগ দিয়ে যাদেরকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছি তাদের ছেড়ে বৃদ্ধাশ্রমে এসে আমি কি সুখনিদ্রায় আচ্ছন্ন থাকব! রাজন যখন ছোট তখন থেকেই তাকে ছেড়ে কোথাও যাওয়ার কথা ভাবতেও পারিনি। এমনকি বাপেরবাড়ি পর্যন্ত যাওয়া হয়নি। অথচ আজ সে কত সহজে ছিঁড়ে দিলো সব বাঁধন।
আশ্রমের সামনের খোলা উঠোনজুড়ে গালিচার মতো বিছানো সবুজ তৃণপত্র। এখানে ওখানে পাথরের বেঞ্চিও আছে কয়েকটা। প্রায় সবাই এসে জড়ো হয়েছে সেখানে। বারান্দা থেকে নেমে একটু এগিয়ে যেতেই বেঞ্চিতে বসা এক বুড়িকে দেখে আমার পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। অনেক বয়স হয়ে গেছে মনে হয়, কাশফুলের রঙ ধারণ করেছে মাথার চুলে, ভাঁজ পড়েছে মুখের চামড়ায়। তবু মুখ দেখে চিনতে আমার একটুও ভুল হয়নি। সালেহা বেগম পরিচয় করিয়ে দেয়, ‘উনার সঙ্গে তো বোধ হয় আলাপ হয়নি, রাবেয়া আপা। উনি রায়জন নেছা। আমাদের আশ্রমের নতুন বাসিন্দা আর উনি হচ্ছেন রাবেয়া। এসেছেন বেশি দিন হয়নি। এইটুকু পরিচয় তো যথেষ্ট, তাই না? ঠিকানা যখন সবার এক...!
আমি নির্ণিমেষ তাকিয়ে ছিলাম। সালেহা বেগমের কথা শেষ হওয়া মাত্র অবাক হওয়া গলায় শুধাই, ‘তুই রাবেয়া! উদয়নপুর গ্রামের...?’
‘আরে দাঁড়ান, দাঁড়ান...! আপনি...মানে...!’ বলেই একদৃষ্টে আমায় ঠাহর করে নিয়ে নাটকীয় ভঙিতে দুই হাত মাথার ওপরে উঠিয়ে বলে, ‘হায় আল্লাহ! আমি কি স্বপ্ন দেখছি! আমার সামনে দাঁড়িয়ে এ কে? তুই তো রায়জন!’
সালেহা বেগম একটু ধাঁধায় পড়ে গিয়ে বলে, ‘আপনাদের কি আগে থেকে পরিচয় আছে?’
রাবেয়া বেশ উচ্ছ্বসিত গলায় বলে, ‘আগে থেকে পরিচয় মানে? দুইজন তো একই গ্রামে, একসঙ্গে জন্মেছি, একসঙ্গে বড় হয়েছি, খেলেছি, বাঁদরামি করেছি। রায়জন তো বাঁদরের মতো গাছে গাছে চড়ে বেড়াত। জানেন, আমরা তখন গ্রামে থাকতাম...।’
ব্যস, শুরু হয়ে গেল গল্প।
উদয়নপুর নাম ছিল গ্রামটির। গ্রামের পুব পাশে বয়ে গেছে একটি বিশীর্ণ নদী। নদীর তীরে কাশফুলের গাছ, জলে ভাসমান রঙিন পালের নৌকো, হালধরা মাঝির কণ্ঠে ভাটিয়ালি গান আর বৈঠার টানে পানির কলকল ধ্বনিতে নিত্য মুগ্ধ হতাম। আদতে গ্রামটি ছিল সবুজ বৃক্ষের ছায়া ছায়া মায়াময় নিভৃত একটি ভূখণ্ড। সেই অনুপাতে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, আতা, কতবেল, জামরুল, বকুল, মেহগনি, নীপ, কদম, তেঁতুল, শেওড়া- এসব গাছ তো ছিলই, তেঁতুল আমার অপছন্দ আর শেওড়াতে ভূতের ভয় থাকলেও কোনো গাছই বাদ যায়নি, বরই, কমলা লেবু, আমলকী-টামলকী প্রায় সব গাছই ছিল আমাদের পুকর পাড়জুড়ে। বিকেল হতে না হতেই দল বেঁধে আমি রাবেয়া ও অন্যান্য পাড়ার বোনেরা জড়ো হতাম সেখানে। বড় গাছগুলোর আড়ালে লুকোচুরি, গোল্লাছুট, কুত্কুত্, আয়রে আমার গোলাপ ফুল, বউচি খেলে কাটত বিকেলটা। রাবেয়া, ফারজানাদের সঙ্গে খেলতে খেলতে একদিন সন্ধ্যে পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরার কথা মনে পড়েনি। আব্বা ও আম্মা চিন্তায় অস্থির হয়ে সারা গ্রাম তন্ন তন্ন করে খুঁজে কোথাও না পেয়ে পুকুরপাড়ে এসে আমার কান ধরে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল। কে জানত সেই দিনই ছিল রাবেয়ার সঙ্গে আমার শেষ দেখা!
ছোট ভাই শহীদুল আমার পিঠেপিঠি ছিল বলে আমাদের মধ্যে নিয়মিত খুঁনসুটি হতো। শহীদুল মায়ের সাথে ঘুমাতে পছন্দ করত। আমি সেটা সহ্য করতে না পেরে উত্তরের ঘরে নিজের কাপড়-চোপড়, খেলনাসামগ্রী সাজিয়ে মাকে ডেকে এনে বলেছিলাম, আম্মা, আজ থেকে আপনে আমার ঘরে ঘুমাবেন।’
আম্মা বলেছিল, তোমার ঘর মানে! বাপের বাড়ি মেয়েদের কখনো নিজের বাড়ি হয় না।’
এ কথা শোনার পর আকৈশোর আমার ঘরটিকে আর আপন ভাবতে পারিনি। বিয়ে হওয়ার পর শ্বশুরবাড়ি এসে ভাবলাম, এবার তো নিজের বাড়ি হলো। ইচ্ছেমতো বাড়িটা সাজাব। কিন্তু ঘরের ভেতরে সব জিনিসপত্র গুছিয়ে দেয়ালের ওপরে হাঁড়ি রাখার জন্য মাচা টানাতে গেলে শ^শুর বাধা দিয়ে বলেছিল, ‘আমার বাড়িতে এসব পেরেক ঠুকে দেয়াল নষ্ট করা যাবে না।’
তাহলে কি শ্বশুরবাড়িও আমার বাড়ি না? কয়েক বছর পর শ্বশুর মারা গেল। রাজনের জন্ম হলো। শ্বশুরের রেখে যাওয়া জমি-জিরাত, বাড়ি-ঘর ভাগাভাগি হয়ে রাজনের বাবার ভাগে পড়ল একটি টিনের ঘর আর কয়েক বিঘা জমি। রাজনের বাবার শখ ছিল আমার নামে একটি বাড়ি কেনার, যা হবে শুধু আমার বাড়ি। হঠাৎ করে একদিন সুযোগটা পেয়ে যায় সে। নিজের জমানো টাকা ছাড়াও আমার কানের দুল, নাকের নথ, গলার হার আর হাতের চুড়ি বেচে বাকি টাকা জোগাড় করে যে বাড়িটি কিনেছিল, তিরিশ বছরেরও বেশি সময় বসবাস করেছি সেখানে। রাজনের বাবা গেটের পাশে লাল ও নীল রঙ দিয়ে লিখেছিল ‘রায়জন কুঞ্জ’। পুরনো দেয়ালের ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার ফলে সেই নামের ‘য়’ মুছে গিয়ে এখন ‘রাজন কুঞ্জ’ হয়ে গেছে। নামের একটি বর্ণ মুছে যাওয়ার সাথে সাথে বাড়ি থেকে আমার অধিকারও মুছে যাবে কখনো ভাবিনি। সেদিন তো রাজনের কথায় বাড়ি ছাড়ার অলিখিত নোটিশ পেয়েই গেলাম, ‘আম্মা, বাবার তৈরি এ বাড়িটা বড্ড সেকেলে। এটা ভেঙে নতুন করে বানিয়ে ভাড়া দিয়ে দেবো।’
‘ভাড়া দিলে আমরা থাকব কোথায়?’ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম ছেলেকে।
‘আমার বাড়িতে থাকবে। শহরে আমি যে বাড়িটা কিনেছি, সেখানে থাকবে।’
আমি আর কিছু বলিনি। সত্যি বলতে কি, আর কিছুই বলার ছিল না তখন আমার। আশপাশের সব বাড়িই যখন ডেভেলপারদের চৌকস হাতে পড়ে প্রতি ইঞ্চির স্মার্ট ব্যবহারে স্লিম ফিগারের হয়ে উঠেছে, তখন এ বাড়িটাই কেবল ঢাউস একটি পেট নিয়ে অনেক জায়গা অপচয় করছে। এই নিয়ে ছেলে আর ছেলের বউয়ের আশান্তির শেষ নেই। বউয়ের ইচ্ছে পূরণ করতে খুব তাড়াতাড়ি হয়ত ডেভেলপারদের হাতে চলে যাবে বাড়িটা। স্বামীর এত শখের বাড়ি, শুধু শখের কেন, এত শ্রমে কেনা বাড়ি- যেখানে সুখে-দুঃখে, আনন্দ-আহ্লাদে কাটিয়েছি আমরা দাম্পত্যজীবনের প্রায় পুরো সময়, সেই বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে গিয়ে থাকতে হবে ভাবতেই আমার চোখ ভিজে উঠেছিল পানিতে...।
জানি, এ বয়সে এমন ছেলেমানুষির কোনো অর্থ হয় না। তবু রাবেয়াকে কাছে পেয়ে বয়সের কথা ভুলে পুরনো স্মৃতিচারণে একটু বিমর্ষতায় আচ্ছন্ন হতে হলো। নিজের কথা প্রায় সবই বলেছি, শুনেছি রাবেয়ার কথাও। তার এখানে আসার গল্পটি জানতে চাইলে সে জানায়, ‘আরে আমার কোনো গল্প নেই। বিয়ে করেছিলাম, যথারীতি ছেলেমেয়ে বড় হলো, মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি চলে গেল আর ছেলেদের পাখা গজালো। বড়টি ইংল্যান্ডে, সেখানেই বিয়ে করেছে। ছোটটি সরকারি অফিসের বড় কর্তা। থাকে চট্টগ্রামে। বাড়িতে একা একা ভালো লাগছিল না, তাই খোঁজখবর নিয়ে চলে এলাম এখানে। সমবয়সী লোকজনের সাথে একবাড়িতে থাকা যাবে, আর লাভের ওপর ডাবল লাভ তোকে পেয়ে গেলাম।’
আমাদের কথা থামে কেয়ারটেকারের ডাক শুনে। খাবারের ডাক দিতে এসেছে সে। সকালটা কেমন করে যেন দুপুর হয়ে গেল টেরও পেলাম না। চোখের কোণে লেগে থাকা জলের চিহ্ন মুছে ঘরে ফিরে যাই দু’জনে। দুপুরের উদাস সময়টা আরো উদাস করে দিয়ে কোথাও একটি ঘুঘু ডেকে ওঠে। একাকী ঘরে বসে সময় যেন কাটে না। অদৃশ্য এক শক্তির হাতের পুতুল হয়ে যেন নাচানাচি করে যাচ্ছি সংসারে- এ সত্যিটা মর্মে মর্মে অনুভব করি।
দুপুর থেকে ঘরের ভেতরে একা একা শুয়ে আছি।
হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ে। কে আবার এলো? দরজা খুলতেই সামনে দাঁড়িয়ে রাবেয়া ও দুইজন মহিলা। তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি সব হারানোর একটা উদাস দৃষ্টি চোখ ছাড়িয়ে গেছে প্রশস্ত কপালে, কাশফুলের মতো কেশের শুভ্রতায়। ঠোঁটের কোণের আলতো হাসিটি আশ্রমের ম্লান আলোর চেয়েও নিষ্প্রভ। কত অজানা সুখ-দুঃখ বয়ে বেড়ানো, অচেনা মানুষ আমাদের দাঁড় করিয়েছে এক উঠোনে।
‘চল।’ রাবেয়ার আহ্বানে এগিয়ে চলেছি তার পেছনে পেছনে। আশ্রমের মূল বাড়ি থেকে ১০০ গজের মতো দূরত্বে একটি বাগান। সেখানে দু-চারজন করে পুরুষ ও মহিলা আলাদা আলাদা গল্পগাছা করছে। নিজেকে বড্ড বেমানান লাগছে তাদের মাঝে। কোনো নতুন জায়গায় প্রথম এলে যেরকম অনুভূতি হয়, তেমনই। ক’দিন বাদে আমিও হয়ত তাদের মতো হয়ে যাব, তখন এসব ঘরদোর, বাগান, গানগল্পে একাকার হয়ে দিন কাটবে আপন খেয়ালে।
দিনভর আলো বিলিয়ে সূর্যটা যেন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। নরম রোদ আর ম্লান আলোর প্রাক-সন্ধ্যায় বাগানে আনমনে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে একটি পাথরের বেঞ্চি দেখে ধপ করে বসতে বসতে রাবেয়াকে বলি, ‘তোকে আমি সত্যি কথা বলতে পারিনি, রাবু। নিজের ইচ্ছায় আমি আসিনি আশ্রমে। পঁয়ত্রিশ বছর আগে সংসারে ঘানিতে জড়িয়েছিলাম। এতকাল সেই কাজই করেছি। যখন শেকড়-বাকড়ে জড়িয়ে ফেলেছি নিজেকে তখনই তারা আমাকে অবহেলা শুরু করল। এখন আমার সামনে কিছু নেই, বর্তমানও অর্থহীন...!’ কান্নায় থেমে গেল কণ্ঠস্বর আমার।
রাবেয়া কাছেই একটি ফুলগাছের দিকে নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে আমার কথাগুলো শুনছিল। এবার তাকায় আমার দিকে, ‘শুধু এ জন্যই তুই এত মনমরা হয়ে থাকিস? আশ্রমে যারা আছে, কত ভয়ানক দুঃখের বোঝা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে তারা, জানিস? ওই শাহিদা আপাকে দেখ, স্বামীর ঘর ছেড়ে এসে হাড়ভাঙা কষ্টে ছেলেকে মানুষ করেছিল, সেই ছেলে নাকি রাজনীতির শিকারে খুন হয়েছে। তারপর নারগিস আপা, ছয় সন্তানের পর কোনো ছেলে হয়নি বলে ভাইয়ের ছেলেকে নিজের ছেলের মতো করে কাছে টেনে নিয়ে ছিল, স্বামী মারা যাওয়ার সাথে সাথে জুয়া আর মদের নেশায় মত্ত হয়ে সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছে। ভেবে দেখ, তাদের তুলনায় তোর দুঃখ কিছুই না, তা হলেই হালকা লাগবে।’
‘রাবু, নিজের দুঃখ সইতে পারি, কিন্তু জীবনভর এত এত যন্ত্রণা সহ্য করে বড় করেছি যে ছেলেকে সে-ই শেষবেলায় বৃদ্ধাশ্রমের রাস্তা চেনাল- এ দুঃখ কী করে সইব?’
রাবেয়া এবার হেসে ফেলে, ‘তবু আমরা ভাগ্যবান। এ যুগে তারা তবু আমাদের হাত ধরে পৌঁছে দিয়েছে কোনো একটি আশ্রয়ে, পরবর্তী যুগের ছেলেমেয়েরা মা-বাবাকে আশ্রয় চিনিয়ে দেয়া সময়টুকুও পাবে না।’
রাবেয়ার কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু কথাগুলো আমার অভিমানের বেড়া ভেঙে মনে প্রবশের পথ পেল না। আমি রক্ত মাংস আর আয়ুর ভাগ দিয়ে যাকে হাঁটতে শিখিয়েছি সে আজ হাঁটার পথ পেয়েই আমাকে...! দূর ছাই, আবার কেন পানি আসে চোখে! চোখের পানি ঢাকতে হাঁটুতে মুখ গুঁজে বসে আছি। রাবেয়া আর কথা বলে না। এতক্ষণ এভাবে বসে থেকে পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরেছিল, ‘পা ধরে গেছে বসে থেকে, একটু হাঁটব, চল।’
রাবেয়া দু’হাতের বালি ঝেড়ে উঠে নিঃশব্দে হাঁটতে থাকে। আড়মোড়া ভেঙে আমিও তার সঙ্গ ধরি। নিজেকে খাঁচায় বন্দী থাকার পর ছেড়ে দেয়া পাখির মতো মনে হচ্ছে। এমন বিস্তারিত আকাশ, চরাচর কত দিন দেখি না।

কথামালা Designed by Templateism | Blogger Templates Copyright © 2014

Theme images by mammuth. Powered by Blogger.