Stories

ভূতের সঙ্গে গুড্ডুবুড়ার সেলফি -

গুড্ডুবুড়ার বাসায় ভূতের উৎপাত হচ্ছে। গুড্ডুবুড়ারা থাকে একটা চারতলা বাসার চারতলায়। একদিন দুপুরবেলা, বাবা অফিসে, মা ঘুমোচ্ছেন, তার বড় বোন গুড্ডিবুড়ি গেছে গানের ক্লাস করতে। এই সময় সারা বাড়ি নিঝুম। কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই। হঠাৎ সে দেখতে পেল, তাদের বৈঠকখানার জানালায় একটা লোক
ঝুলছে। তার চুল সাদা, চোখ সাদা, মুখ সাদা, কান সাদা, তার গায়ের কাপড়চোপড় সাদা। এ নিশ্চয়ই ভূত।
জানালা খোলা ছিল। গুড্ডুবুড়া বলল, আপনি কে, আপনি কি ভূত?
লোকটা বলল, হ্যাঁ, আমি ভূত।
গুড্ডুবুড়া বলল, আপনি কেমন ভূত?
কেমন ভূত মানে কী?
আপনি কি ভালো ভূত, নাকি খারাপ ভূত?
আমি মাঝারি ভূত।
মানে কী?
আমি মাঝেমধ্যে ভালো থাকি, মাঝেমধ্যে খুব খারাপ হয়ে যাই।
এখন আপনি কী রকম আছেন? ভালো না খারাপ?
এখন আমি ভালো।
আপনি ভালো ভূত। আমি শুনেছি ভালো ভূতেরা বাচ্চাদের চকলেট দেয়। ফ্রিজে সেই চকলেট রেখে দিতে হয়। তাহলে সেই চকলেট কোনো দিনও শেষ হয় না। আপনি যতবার ফ্রিজ খুলবেন, দেখবেন চকলেট। নিয়ে খেয়ে ফেললেন। একটু পরে খুলে দেখবেন আবারও চকলেট এসে ফ্রিজে ঢুকে গেছে।
লোকটা বলল, আমার পকেটে তো এখন চকলেট নাই।
আপনি তো ভূত। হাতটা লম্বা করে চকলেট নিয়ে আসুন।
ভূতটা নিচের দিকে নেমে গেল।
গুড্ডুবুড়া তাকে জানালায় দেখতে পাচ্ছে না।
একটু পর তাদের দরজায় বেল বেজে উঠল।
গুড্ডুবুড়া দৌড়ে গেল। গিয়ে দেখল, সেই ভূতটা। সারা গা সাদা। তার মাথার চুল সাদা। চোখের পাপড়ি পর্যন্ত সাদা।
লোকটার হাতে দুটো চকলেট। লোকটা বলল, তোমার নাম কী?
গুড্ডুবুড়া।
গুড্ডুবুড়া, আমি তোমার জন্য এই চকলেট আনলাম। নাও।
গুড্ডুবুড়া বলল, ধন্যবাদ। আমি কি ফ্রিজে রেখে দেব চকলেট দুটো?
লোকটা বলল, একটা খাও। আরেকটা রেখে দাও।
গুড্ডুবুড়া বলল, থ্যাংক ইউ।
গুড্ডুবুড়া একটা চকলেট খেল। আরেকটা রেখে দিল ফ্রিজে। গুড্ডিবুড়ি আসুক। তখন বের করবে। ভূতের চকলেট। কাজেই কোনো চিন্তা নেই। যতবার বের করবে, ততবার একটা করে নতুন চকলেট এসে ফ্রিজে থাকবে।
কিন্তু একটু পর তার মনে হলো, আচ্ছা, ওই চকলেটটাও খেয়ে ফেলি। আপা এলে তার জন্য তো নতুন চকলেট ফ্রিজে আসবেই। সে ফ্রিজ থেকে বের করে দ্বিতীয় চকলেটটাও খেয়ে ফেলল।
বিকেলে গুড্ডিবুড়ি এল। সে গুড্ডুবুড়ার চেয়ে দুই বছরের বড়, তার বয়স ১০। সে ভীষণ চটপটে। গুড্ডুবুড়ার মতো বোকা না।
গুড্ডুবুড়া বলল, আপা, দাঁড়াও তোমাকে চকলেট দিই।
চকলেট কই পেয়েছিস?
ভূত দিয়ে গেছে।
যা। ভূত বলে কিছু নাই।
আছে। আমাকে চকলেট দিয়ে গেল। আমি ফ্রিজে রেখেছিলাম। খেয়ে ফেলেছি। কিন্তু ভূতের চকলেটের নিয়ম হলো, যদি তুমি ফ্রিজে রাখো, চকলেট শেষ হবে না। যতবার বের করবে, আরও নতুন চকলেট এসে ফ্রিজে ঢুকে বসে থাকবে।
গুড্ডিবুড়িকে নিয়ে গুড্ডুবুড়া গেল ফ্রিজের কাছে। দরজা খুলে দেখল, ভেতরে কোনো চকলেট নেই। গুড্ডিবুড়ি বলল, কই তোর ভূতের চকলেট? যা, বোকা, বানিয়ে বানিয়ে কী সব গল্প বলছে।
না না, সত্যি একটা ভূত জানালা দিয়ে এসেছিল। আমাকে চকলেট দিয়ে গেছে।
পরের দিন দুপুরবেলা আবারও ওই ভূত লোকটা তাদের শোবার ঘরের বারান্দার কাছে ঝুলছে।
গুড্ডুবুড়া, কেমন আছ?
গুড্ডুবুড়া চমকে উঠল। কে?
আমি ভূত।
ও ভূত আংকেল। আমার আপা বিশ্বাসই করে না যে আপনি আমাকে চকলেট দিয়েছিলেন। আর আপনার চকলেট দুটোই খেয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু ফ্রিজে নতুন চকলেট আসেনি।
ভূত বলল, আমি আবারও তোমাকে চকলেট দিয়ে যাব।
কিছুক্ষণ পর দরজায় ঘণ্টা বেজে উঠল। দৌড়ে গেল গুড্ডুবুড়া।
আপনি এসেছেন? দিন চকলেট।
ভূত বলল, তুমি চকলেট খাও। আমি দেখি।
গুড্ডুবুড়া চকলেটের মোড়ক খুলে একটা চকলেট মুখে দিল। ভূত বলল, আমারও তোমার মতো একটা ছেলে আছে। তার নাম মিঠু। সে গ্রামে থাকে। ক্লাস টুয়ে পড়ে।
ভূতের স্কুলে পড়ে? গুড্ডুবুড়া জিজ্ঞেস করল।
হ্যাঁ, ভূতের স্কুলে পড়ে।
শোনেন, আপনি যে আমার কাছে আসেন, আমাকে চকলেট দেন, আপা কিছুতেই বিশ্বাস করে না। কী করা যায়, বলেন তো।
তুমি এক কাজ করো। আমার সঙ্গে একটা সেলফি তুলে ফেলো। তাহলে বিশ্বাস করবেন।
আচ্ছা। ঠিক আছে। আম্মুর মোবাইলটা নিয়ে আসছি।
মা ঘুমোচ্ছেন। এই সুযোগে গুড্ডুবুড়া মায়ের বিছানার পাশ থেকে তার মোবাইল ফোন নিয়ে এল।
বাইরের দরজায় এসে ভূতের সঙ্গে সে সেলফি তুলল।
ভূত লোকটা বলল, বাহ্, ভালো হয়েছে। এবার আমি আসি। কামের ক্ষতি হচ্ছে।
ভূত লোকটা চলে গেল।
গানের ক্লাস সেরে গুড্ডিবুড়ি এল বিকেলে। গুড্ডুবুড়া তাকে ফ্রিজ থেকে বের করে চকলেট দিল। তারপর বলল, ভূতের চকলেট। খাও। আর তোমাকে ভূতের সঙ্গে আমার সেলফি দেখাচ্ছি।
গুড্ডুবুড়া দৌড়ে মায়ের মোবাইল ফোন আনল। গুড্ডিবুড়িকে ফটো দেখাল। একটা লোক, তার চুল সাদা, মুখ সাদা, ভুরু সাদা, চোখের পাতা সাদা, সারা গা সাদা। তার সঙ্গে গুড্ডুবুড়া সেলফি তুলেছে।
গুড্ডিবুড়ি হাসতে হাসতে বলল, আরে, এরা তো আমাদের বিল্ডিং রং করছেন। ইনি একজন রংমিস্ত্রি।
মাকে সেই ফটো দেখানো হলো। বাবাকে দেখানো হলো। মামা বেড়াতে এসেছেন। তাকেও দেখানো হলো। গুড্ডিবুড়ি ভারি মজার জিনিস পেয়েছে যেন।
মামা বললেন, এ তো ভালো কথা নয়। মিস্ত্রি কেন ঘরে এসে বাচ্চাকে চকলেট দেবে। কেন সে দরজায় বেল টিপবে।
বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকারকে নালিশ করলেন মামা। পরের দিন সকালবেলা। রংমিস্ত্রি এল। কেয়ারটেকার তাকে বলল, তুমি ভীষণ অন্যায় কাজ করেছ। তুমি কেন একটা বাড়িতে গিয়ে বাচ্চার সঙ্গে ছবি তুলেছ। তোমাকে আর কাজ করতে হবে না। তুমি যাও।
মিস্ত্রি বসেই রইল। আজ সে কাজ করবে না। কিন্তু যাবেও না।
স্কুল থেকে ফিরছে গুড্ডুবুড়া।
নিচে গেটের কাছে মিস্ত্রি বসে আছে। গুড্ডুকে দেখে দাঁড়াল। বলল, বাবু, তুমি কেমন আছ?
গুড্ডু তাকিয়ে দেখল, সেই লোকটাই। তবে আজ তাকে মানুষের মতো লাগছে। তার চুল কালো, ভুরু কালো, নাক-মুখ-চোখ স্বাভাবিক রঙের। সে বলল, আপনি আজকে মানুষ সেজেছেন?
তিনি বললেন, হ্যাঁ। আজকে আমি মানুষ সাজছি। আমার কাম শ্যাষ। আমি যাইতাছি। খালি তোমার লগে দেখা করার লাইগা বইসা আছি। ন্যাও তোমার লাইগা দুইটা চকলেট আনছিলাম। ধরো। আমি যাই। মিঠুর লগে কথা কইবা? মোবাইলে ধরাইয়া দেই। কথা কও।

উৎস: প্রথম আলো শিল্প ও সাহিত্য

কথামালা Designed by Templateism | Blogger Templates Copyright © 2014

Theme images by mammuth. Powered by Blogger.